বাংলাদেশি ফটোগ্রাফার আবু রাসেল রনির সাথে আলাপ

আবু রাসেল রনি। বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলায় জন্ম। চাকরী করেন একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে। ফটোগ্রাফি নিয়ে ভীষণ আগ্রহী ও একাগ্রচিত্তের এই আলোকচিত্রী ২০১০ সাল থেকে ছবি তুলছেন। বাংলাদেশি অনেক ফটোগ্রাফার তার অনুপ্রেরণার উৎস। আমি পথে-ঘাটে ছবি তুলতে ভালোবাসি। ইচ্ছেমতো হেঁটে বেড়াতে এবং চারপাশে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য মুহুর্তগুলো ক্যামেরায় তুলে রাখা আমার কাছে সৌভাগ্যের মনে হয়। তার ভাষায় ফটোগ্রাফি বলতে তিনি এমনটিই বলেন। আমাদের আমন্ত্রণ গ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ! প্রিয় পাঠক, আপনিও জেনে নিতে পারেন তার সম্পর্কে।

আপনি আপনার পরিচয় জানাবেন আমাদের?
হ্যালো, আমি আবু রাসেল রনি। বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার একজন অধিবাসী। জীবিকার প্রয়োজনে একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরী করি। আলোকচিত্র আমার প্রচণ্ড আবেগের জায়গা। ২০১০ সাল থেকে আমি ফটোগ্রাফির প্রতি আগ্রহী হয়ে পড়ি। শব্দ কিংবা কথার সাহায্য নিজের পরিচয় দেয়া আমার জন্য বেশ কষ্টকর। এখানে আমার কিছু ছবি আছে। সেগুলো দেখুন। আমার পরিচয় আমার ছবিতেই আছে।

আর্টসের প্রতি আপনার শৈশবের স্মৃতি পাঠকদের সাথে শেয়ার করবেন?
আমার বাবা সেনাবাহিনীতে ছিলেন। আমার ছোটবেলা আর্মি ক্যান্টনমেন্টে কেটেছে। ছোটবেলায় আমি ক্রিকেটার হতে চাইতাম। তাই, সবসময় ক্রিকেট খেলতাম। ২০০৮ সালে আমার মা মারা যান। তার মৃত্যু আমাকে ভীষণ একা করে দেয়। আমার স্বাভাবিক জীবন-যাপন ব্যহত হয়। সেই সময় আমি পুরোপুরি ক্রিকেট খেলা ছেড়ে দিই। তারপর হঠাৎ করেই আলোকচিত্রের সাথে আমার পরিচয় হয়। বিষয়টি আমার একাকীত্ব থেকে মুক্তির একটি অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করেছিলো।

আলোকচিত্রের প্রতি আপনার আগ্রহ কীভাবে তৈরী হলো? কীভাবে এই আগ্রহকে বিকশিত করলেন?
২০১০ সাল থেকে আমি ছবি তুলতে শুরু করি। মূলত ফেসবুক থেকে আমার আগ্রহের শুরু। একই সময়ে কুষ্টিয়া শহরে আমাদের একটি ফটোগ্রফি এসোসিয়েশন ছিলো। পাখির বাসা নামে। সেখানে আমি অনেক ফটোগ্রাফারের সাথে আলোকচিত্র নিয়ে নানারকম আলাপ হতো। সেই আলোচনাগুলো আমার ফটোগ্রাফির যাত্রাপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলো।

‘পিপল ফটোগ্রফির’ প্রতি আপনার আগ্রহের শুরুটা কেমন করে হয়?
আলোকচিত্রের শুরু থেকে মানুষ আমার ফটোগ্রফির প্রধান বিষয় ছিলো। সবসময় চেষ্টা করতাম, আমার ফ্রেমে মানুষকে মূখ্য এলিমেন্ট হিসেবে তুলে রাখতে। আমি প্রান্তিক গ্রামীণ মানুষজনের ছবি তুলতে সবসময় ভালোবাসি। গ্রামীণ জীবনকে আমার আলোকচিত্রে সবসময় প্রাধান্য দিতে চেয়েছি এবং  আজীবন এটাই চাই।

দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ বিষয়াদির মধ্যে সৌন্দর্য আবিষ্কারের বিষয়ে নিজেকে কীভাবে প্রশিক্ষিত করেছেন?
আমি আগেই বলেছি, আমি খুব সাধারণ একজন মানুষ। আমি আমার প্রতিদিনের জীবনে আগ্রহউদ্দীপক যা কিছু দেখি, আমার ক্যামেরায় সেসব তুলে ফেলার চেষ্টা করি। যখন কেউ আমার ছবি দেখে, আমি সেই সময়কার আন্তরিক আনন্দটুকুই চেয়েছি।

আলোকচিত্র আপনার জীবনে কী পরিবর্তন এনেছে?
ফটোগ্রফি আমার জীবনে ব্যপক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। যদি আমি পেছন ফিরে তাকাই, তাহলে দেখতে পাই, ফটোগ্রফি আমাকে একজন ভালো মানুষ হতে সাহায্য করে যাচ্ছে।

আপনার ধারণামতে ভালো ছবি কীভাবে তৈরী হয়?
এককথায় বিষয়টি বলা বেশ কঠিন। ভালো চিত্রায়ণ, ফটোগ্রাফের বিষয়, কম্পোজিশন, ফ্রেমিং, আলো ইত্যাদি অনেক কিছুর উপর ভালো ছবির ব্যাপারটি নির্ভরশীল।

আপনার আলোকচিত্রের যাত্রায় বন্ধু-পরিবাবের সমর্থন ও সহযোগিতা সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু বলুন
আমার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলে আমার আলোকচিত্রে সাহায্য করেছে। আমার কিছু বন্ধু, সোহেল ভাই, তনয় ভাই, আনু, রোকন ভাই, সোহাগ ভাই আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। শিক্ষক হিসেবে হাসান চন্দন স্যার সহযোগিতার হাত সবসময় বাড়িয়েই রেখেছিলেন। তিনি আমার অনুপ্রেরণাদায়ীদের একজন। আমার স্ত্রী সোনিয়া আমার ফটোগ্রফি জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক বেশি সহযোগিতা করেছে সবসময়। আমি তাদের সবার কাছে আন্তরিক কৃতজ্ঞ।

কোন পছন্দের আলোকচিত্র বিষয়ক বই?
সেবাস্টিায়াও সালগাদোর ‘জেনেসিস’।

আপনার বাস্তব জীবনের আদর্শ কারা?
ফটোগ্রফি জীবনে আমার হিরো হাসান চন্দন স্যার। আর, ব্যক্তি জীবনে আমার মা, যিনি আজ পৃথিবীতে নেই।

ভালোবাসা বলতে কী বুঝেন?
আমার কাছে ভালোবসার মানে ‘আমার উপর বিশ্বাস রাখা’।

আপনি কি আপনার ভবিষ্যতের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং আকাঙক্ষা সম্পর্কে আমাদের জানাবেন?
আমি আমার কর্মজীবনে একটি ভালো চাকরীতে স্থায়ী হতে চাই। আগামীতে একটি ফটোগ্রফির বই প্রকাশ করার ইচ্ছা রাখি। আর, আশা করি, কখনো নিজের আলোকচিত্র নিয়ে একটি একক প্রদর্শনীর আয়োজন করবো।

ফটোগ্রাফির বাইরে আপনার শখ ও আগ্রহ আর কী কী আছে?
আমি গান শুনতে পছন্দ করি। আর, ফটোগ্রফির বিষয় বাদ দিয়ে অন্যকিছু নিয়ে আড্ডা দিতে ভালোবাসি।

১২১ ক্লিকসকে ইন্টারভিউর সুযোগ দেয়ায় আপনাকে আবারো ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমরা। আমাদের পাঠকদের জন্য কোন সমাপনী বার্তা দিতে চান?
আমি বলতে চাই, একজন ভালো আলোকচিত্রী হওয়ার সাথে সাথে একজন ভালো মানুষ হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১২১ ক্লিকসকে ধন্যবাদ আমাকে সুযোগ দেয়ার জন্য।


আবু রাসেল রনিকে ইন্টারনেটে খুঁজে পাওয়া যাবেঃ
ফেসবুক
ফ্লিকার
ইন্সটাগ্রাম

কপিরাইট:
এই পোস্টে ব্যবহৃত সকল ছবির কপিরাইট আবু রাসেল রনির। মূল মালিকের স্পষ্ট অনুমোদন ব্যতিত এগুলোর পুনরুৎপাদন, এমনকি আংশিক হলেও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।


এই আলাপচারিতাটি 121clicks এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত An Amazing Interview With Bangladeshi Photographer Abu Rasel Rony শিরোনামের ইন্টারভিউর বাংলা অনুলিপি। মূল ইন্টারভিউর স্বত্ত্ব 121clicks এর।  ইংলিশ ভার্সনটি পড়তে পারেন এই লিঙ্ক থেকে

মন্তব্য করুন