ব্যথা ভারাক্রান্ত ঘুঙুরের মতো রাতভর বেজে যাওয়া এক দুঃখবিলাস!

এখন বাহিরে রাত
দূর হতে ভেসে আসে রাতজাগা বিহগের
বিষন্ন আর্তরব।
কেউ কোনোদিন জানবে না
কিসের বিরহে তার নির্ঘুম রাত কাটে;
দু’চোখের পাতায় অস্থির কাপন।

জানো কি তুমি,
কি হারানোর বেদনায়
কতো গভীর দুঃখ যাতনায়
পাথরেরও বুক ভাঙে!
দেখেছো কি তুমি,
পাহাড়ের কোল বেয়ে সে কান্নার
ঝর্ণা হয়ে অবিশ্রান্ত বয়ে যাওয়া!
তুমি শুনতে পাও কি,
ক্লান্ত দুপুরে রাখালীয়া বাঁশীতে
বাদকের বোবা যন্ত্রণার
সুর হয়ে ঝরে পড়া!
কিংবা,
ঝিঁ-ঝিঁ পোকার জমানো অনেক দুঃখের
অবোধ্য স্বরে
ব্যথা ভারাক্রান্ত ঘুঙুরের মতো
রাতভর বেজে যাওয়া!

পাও কি শুনতে তুমি?
আনমনা হয়ে ভাবো কি কোন অপূর্ণতার কথা?
মনে পড়ে কি আবছা হয়ে আসা অতীতের কোন মুখ?

আমি জেগে আছি।
আমার পৃথিবীজুড়ে এখন শুধুই
অসহ্য অন্ধকার;
দম বন্ধ করা অখন্ড শূণ্যতা।
সংকীর্নতায় স্থবির আমার শ্বাস-প্রশ্বাস।
আমার কষ্ট হচ্ছে খুব।
তোমার এক চিলতে প্রাণবন্ত হাসির
আমার আজ অনেক দরকার।
তোমার মায়াভরা চোখের অভয়দেয়া দৃষ্টির
বড়োই প্রয়োজন আমার।
যে দৃষ্টিতে কেবলি প্রগাঢ় অনুরাগ।

কিন্তু……………,
কিন্তু তুমি চলে গেছো…..;
এ’যেনো দূরান্তরের পথে চলা, দ্রুতগামী রেলের
মৃদু থেকে মৃদুতর হয়ে
বিন্দুর মতো সুদূরে মিলিয়ে যাওয়া।
তোমাকে ছাড়া আমি ভালো থাকি না জেনেও
তুমি চলে গেলে;
সে’মুহুর্তে মুছে গেলো ভবিষ্যত ক্যানভাসের সব রং।
আমি এক কপর্দকহীন,

হাঁটছি পৃথিবীর, জীবনের অনিঃশেষ পথে।
কিছুতেই কিছু আর রয়না হারাবার
একদিন, হারিয়েছে যার স..ব।

 

ডায়রীর ধূসর পাতা থেকে অতীত খুঁড়ে ব্যথা জাগানো আমার এক দুঃখবিলাস। এ’টা তারই ধারাবাহিকতা। অনেক ক’টা দিন হয়ে গেলো। ডায়েরী লেখা হয় না। টেবিলের কোণে অবহেলায় পড়ে আছে আমার বিশ্বস্ত বন্ধু স্বস্তি নামের ডায়েরীটি।আমি জানি, সে অধীর হয়ে অপেক্ষা করছে আমার স্বভাবসুলভ প্রত্যাবর্তনের। সবাই চলে যায় আপন পথে। আমি সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি পথ খুঁজে ফিরি। খুঁজে ফিরি আমার আমিকে। আমি কি এখনো সেই আমি আছি? নাকি বদলে গেছি, হয়ে উঠছি তোমাদের আমি?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

* ছবির অক্ষরগুলো উপরের ঘরে লিখুন