বান্দরবানের রুমা বাসস্ট্যান্ডে। ইশতিয়াক মাহমুদের তোলা

প্রথম যেদিন ইশকুলে গিয়েছিলাম, সেদিন আমাকে প্রথম যে কথাটি বলতে বলা হয়েছিলো, সেটা ছিলো, আমার নাম। আমি সেদিন পরিবার-প্রদত্ত নাম বলে শুরু করেছিলাম আমার শিক্ষাজীবন। সে নামটি ছিলো হাফিজুল ইসলাম মিয়াজী। মিয়াজী আমার বংশগত পদবী। এই পদবীগুলোর মানে আমি বুঝতে পারি না। আমার কাছে সবচেয়ে বড়ো সত্য হচ্ছে, আমি একজন মানুষ। যার মাথার উপর অটল দাঁড়িয়ে ছাঁয়া দিচ্ছে উদার আকাশ। পরিবারের সবাই ডাকতো রনি নামে। ছোটবেলায় একটু দেরিতে কথা বলা শুরু করেছিলাম বলে, কেউ কেউ নীরব নামেও ডাকতো। হোস্টেলে যখন থাকতে শুরু করলাম, তখন থেকে আমি নীরব। এমনিতে অফিসিয়াল নেইম হাফিজুল ইসলাম হলেও অনলাইনে পদচারনার সুবাধে দ্বৈত পরিচয় হিসেবে ডাকনাম নীরবের সাথে মাহমুদ লাগিয়ে নীরব মাহমুদ হয়ে গেলাম। বিভিন্ন পত্রিকা-লিটল ম্যাগেও এই নামেই লিখি। সেই থেকে অনলাইনে নীরব মাহমুদ নামেই পরিচয় দিই। ব্লগিং করি একটু আধটু। নিকনেইম হচ্ছে রুপালি গিটার।

পড়াশোনায় বিভিন্ন টাইপের ভ্যারিয়েশন ছিলো বলেই আমার পড়াশোনা দিয়ে বয়স যাচাইয়ের চেষ্টা বৃথা যায় সবার। আমি অতি সাধারণ একাকী এবং ভীষণ অসামাজিক একজন মানুষ। আমার জন্ম হয়েছিলো প্রবল বর্ষণের এক দিনে। জীবনের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শিখছি একটু একটু করে। ছোট্ট একটা জগত আমার। প্রযুক্তির অসাধারণ অগ্রযাত্রা আর বিশ্বায়নের এই যুগে নিজের চরিত্রটাকে বড্ড বেমানান লাগে। জীবনের অনেককটা বছর পেরিয়ে গেছে। বন্ধু বলতে নিজের চারপাশে কাউকে জায়গা করে দিতে পারি নি। সবাই বলে, ভীষণ অসামাজিক আমি। কেউ কোনদিন খুঁজে দেখে নি, একটা আটপৌড়ে সাধারণ আমি কিভাবে এমন ছন্নছাড়া হয়ে পড়ছি। সময় কেটে যেতে থেকেছে অবিরাম। ক্রমে নিজের প্রতি হারিয়েছি শ্রদ্ধার সবটুকু। বাঁচতে ইচ্ছে হয় না, কোন স্বপ্ন দেখতে শিখি নি বলে। আমি আমার ছোট্ট রুমের জানালাহীন জগতে পড়ে থাকি। একা..।

দূরে চলে যেতে হবে আমায়…বহু বহু দূরে। হারিয়ে যেতে হবে পৃথিবীর সুবিপুল বিস্তারে। যাতে, আমার অশুভ ছোঁয়া আর কোন প্রিয় মানুষকে কখনো না ছোঁয়। প্রিয় মানুষগুলোর ভালো থাকা দেখবো দূর থেকে। সেটাই হয়তো ভালো। বাতাসের চাদর হয়ে, পৌষের হিম কুয়াশার রুপালি ঝালর হয়ে থাকবো প্রিয় মানুষগুলোর খুব কাছে। কখনো কোন আকাশভাঙা জ্যোৎস্নায় ভর করে নেমে আসবো তাদের আঙিনায়। দেখবো তাদের প্রাত্যহিক সুখি জীবনের মসৃণ পথ পরিক্রমা। এই হয়তো হবে ভালো। হয়তো এটাই হবে বেশ…..।

বই পড়তে ভালোবাসি। ছাপার অক্ষরে লেখা বেশিরভাগ জিনিসই পড়ে ফেলতে চাই। তাই, লেখক কিংবা বিষয় খুব কম সময়ই নির্বাচন করে পড়া হয়। এর একটা ঝামেলার দিকও আছে। অনেক অখাদ্য লেখাও পড়তে হয়। তবুও বলি, আমি পড়তে ভালোবাসি। ভালোবাসি ভ্রমণ। নিজেকে ব্যাকপ্যাকার ট্রাভেলার হিসেবে ভাবতে ভালো লাগে। ভালোবাসি পাহাড়। পর্বতারোহী হওয়ার স্বপ্নটুকু খুব গোপনে লালন করি নিজের ভেতর।

খুব অল্প রিসোর্সে বেঁচে থাকার অভ্যাস আমার বহুদিনের। তাই সফলতার প্রতি মানুষের ছুটে চলার ব্যস্ততা আমাকে অবাক করে। মানুষের নির্লিপ্ততা আমাকে আহত করে। আমার নিজের ভেতরে তৈরী একটি অন্যরকম দুনিয়ায় আমার বসবাস। যেখানে যুক্তির চেয়ে আবেগ বেশি প্রাধান্য পায়। যেখানের মানুষেরা এখনো প্রাণখুলে কাঁদতে জানে।

শৈশব কেটেছে চিটাগাংয়ে। আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স কোয়ার্টারে থাকতাম বাবার চাকরীর সুবাদে। সেখানেই আমি আমার চারপাশের পৃথিবীর সাথে পরিচিত হই।