জেরোনিমোর আত্মকথা; খন্ড-অনুবাদ

# “এখানে আমাদের এরিজোনার মতো পরিবেশ কিংবা মাটি নেই, যেসবের কথা আমার মনের মধ্যে গেঁথে আছে। আমাদের ছিলো দারুনসব চারণভূমি, সবুজ ঘাসে আচ্ছাদিত প্রেইরী, সারিসারি বৃক্ষরাজি, প্রাকৃতিক সম্পদ। যে ভূমি সর্বশক্তিমান শুধুমাত্র এপাচিদের জন্যেই তৈরী করেছেন। আমার নিজের দেশ! নিজের ঘর! আমার বাবার দেশ! যেখানে ফিরে যাওয়া কথা আমি এখন বলতে পারছি। আমি আমার জীবনের শেষ দিনগুলো সেখানেই কাটাতে চাই। চাই সেখানের সুউচ্চ কোন পাহাড়ের কোলে ঘুমিয়ে পড়তে চিরতরে। যদি সেই সুযোগ আমরা পাই, তাহলে আমি শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়তে পারবো। জানবো, আমার মানুষেরা তাদের নিজেদের জন্মভূমিতে ফিরেছে। তারা বৃদ্ধি পাচ্ছে সংখ্যায়..। সম্পদে..উন্নতিতে..। বর্তমানের মতো ক্রমাগত নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে আমাদের বংশধারা। এবং এককালের এপাচিদের কথা টিকে থাকছে ইতিহাসের পাতায়…।
আমি জানি, যদি আমার লোকেরা গিলা নদীর তীর ছুঁয়ে চারদিক জুড়ে অটল দাঁড়িয়ে থাকা প্রাচীন পর্বতশ্রেণীর নিজস্ব ভূমিতে ফিরে যেতে পারে, তাহলে তারা প্রেসিডেন্টের কথা অনুযায়ী চলবে। যদি আমি এই প্রত্যাশিত প্রত্যাবর্তন দেখে যেতে পারি, তাহলে আমি মনে করবো, আমার সকল অনুচিত কৃতকার্য আমি ভুলে যেতে পারবো। এবং শান্তিতে মৃত্যুর পথে যাত্রা করবো, একজন সুখী বৃদ্ধ হয়ে..।
আর, যদি আমার জীবদ্দশায় এই প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন না হয়, তাহলে আমি আশা করবো, এপাচি ট্রাইব আমাকে স্মরণ রাখবে। যখন আমি চলে যাবো , একটা ব্যাপারে আমি নিশ্চিত হতে চাইবো যে, এপাচিরা আমাকে এরিজোনায় ফিরিয়ে নেবে। এরিজোনা..। আমার প্রিয় দেশ..। আমার প্রিয় জন্মভূমি..। “

# জেরোনিমোর আত্মকথা
= অধ্যায়: ভবিষ্যতের জন্য শুভ আকাঙ্ক্ষা
= লেখক : জেরোনিমো
= কিংবদন্তির যোদ্ধা এবং গোত্রপ্রধান, এপাচি ইন্ডিয়ান

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।