হামহাম ট্রেকিং (ভয়ংকর ভার্সন) প্রতিবেদন ২০১৬

এই রিপোর্ট যখন লিখছি, তার কিছুদিন আগে পাহাড় থেকে ফিরেছিলাম চমৎকার একটা ট্রিপ শেষ করে। সেবার প্রথম বান্দরবানে যাই। চমৎকার অভিজ্ঞতা আর অনুবাদঅক্ষম কিছু গল্প সাথে নিয়ে আসার সৌভাগ্য হয়েছিলো। সৌভাগ্য বলছি এ’জন্য যে, পাহাড়কে দেখার যে দৃষ্টিভঙ্গির সাথে পরিচিত হয়েছিলো আমার, হয়তো সেটা আশির্বাদের মতো। পাহাড়ে ভ্রমণ কিংবা অভিযান চলছে বহুদিন ধরে। আমাদের পরিচিত-অপরিচিত মিলিয়ে অনেক বড়ো একটা অংশ পাহাড়ে যান। এই অংশের কেউ যান চূড়ার স্পর্শ পেতে। কেউ যান প্রথম বাংলাদেশি হতে। কেউ যান হই-হুল্লোড়ে পাহাড়ি শান্ত পবিত্রতা নষ্ট করতে। অবশ্য, কোনটা নষ্ট করা আর কোনটা সংরক্ষণ করা, সেটা বিচারের সাধ-সাধ্য-সামর্থ্য কোনটাই আমার নেই।

আমি পাহাড়ে যাই পাহাড়কে খুব কাছ থেকে ছুঁয়ে দেখতে। সহস্র বছর ধরে নীরব দর্শক হয়ে পৃথিবীর পরিবর্তন দেখা এই ‍সুবিশাল অনুষঙ্গগুলোকে আমার সত্যিকারের ধৈর্য্যশীল মনে হয়। বছরের পর বছর ধরে তাকে আশ্রয় করে বেঁচে থাকা অসংখ্য প্রাণের জন্য জোগান দিচ্ছে খাদ্য। দিচ্ছে বসবাসের জায়গা। অজস্র নিভৃতচারী অভিযাত্রীকে দিচ্ছে প্রশান্তি। এই যে এতোকিছু দানের পরেও কোন ক্রেডিট না নেয়ার মহানুভবতা, এটিই আমার কাছে অবাক করার মতো। যাইহোক..। পাহাড়ের পর এবার আমার গন্তব্য দ্রষ্টব্য ছিলো পাহাড়ের কান্নার জল হয়ে ঝরে পড়া ঝর্ণার পথে।

হামহাম কিংবা আমআম শ্রীমঙ্গলের একটি সুপরিচিত ঝর্ণা। আমাদের ইচ্ছা, হামহামের পাদদেশে ক্যাম্পিং করবো। একই সাথে ঝর্ণায় ক্লাইম্বিং। ক্যাম্প এবং ক্লাইম্বিং করতে পেরেছিলাম কিনা, সে গল্প যথাসময়ে লিখেছি। দেখা যাক সামনে কী হয়..!

 

# সহজে পড়ার জন্য ক্লিক করুন : https://goo.gl/9iDKfE

 

Download (PDF, 1.14MB)

 

হরকাবান বা Flash flood | Hamham | ALTITUDE | CLIMBER HUB

গত সপ্তাহে Altitude – outdoor activities আর ClimberHub এর দলীয় আয়োজনে ৩ দেশের (বাংলাদেশ-ফ্রান্স-আমেরিকা) এর ২৪ জন মিলে শ্রীমঙ্গলের হামহাম ঝরনায় অভিজান চালায়। মূল উদ্দেশ্য ছিল এর সামনে ক্যাম্পিং করা এবং নিরাপদ ভাবে ঝরণার দেয়ালে ক্লাইম্বিং(জুমারিং-র‍্যাপ্লিং) করা ।
জানা মতে এর আগে কেউ সেটা চেষ্টা করেনি, কিংবা সম্পন্ন করতে পারেনি।
সব ঠিকঠাক চলার পরও আমাদের বিশাল দলটা আটকে পড়ে, হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে পড়ে।
দুপুর ৩টার মধ্যে মেঘের কালো আকাশ, পানি বাড়তে বাড়তে হরকাবান শুরু হয়ে যায়।
এতে ক্যাম্পিং এর অংশ প্রায় ডুবে যায়। পানি ৩ফুটের বেশি বেড়ে যায় এবং ঝরণার উপরের বাঁশ সহ গাছ ভেঙ্গে পড়তে শুরু করে। অবস্থা প্রতিকূল দেখে আমরা ফেরার পথ ধরি।
যেতে যেখানে আমাদের ২.৫ঘন্টা লাগে ফিরতে লাগে সাড়ে চার ঘন্টার বেশি।
রাত ১০টায় অন্ধকারে কিলবিল করা জনপ্রতি ২০টা করে জোঁকের কামড় খেয়ে গ্রামে ফিরতে হয়।
.
প্রকৃতির বিরুদ্ধে কিছু করা উচিৎ না, আফসোস থেকেই গেলো কিন্তু স্টহিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই আসল, তাই আবার চেষ্টা করা হবে, একদিন কেউ না কেউ ক্লাইম্ব করবে এই ৫০ফুট উচ্চতার খাড়া দেয়াল ।
.
আমার দলের সবার কাছে আমি অসম্ভব কৃতজ্ঞ, এবং আমি সত্যি আপনাদের নিয়ে পরিকল্পনা করব আগামীর আয়োজন, আমার বিশ্বাস আপনারা একটা ভালো দল হয়ে দাঁড়াতে পারবেন নিসন্দেহে ।
শুভকামনা 🙂

Posted by Foysal Mohammad Shaan on Saturday, May 21, 2016

 

 

# প্রচ্ছদ ছবি কৃতজ্ঞতা

প্রচ্ছদ ছবি হিসেবে যে ছবিটি ব্যবহৃত হয়েছে, সেই ছবিটি হামহাম ২০১৫ এর একটি ইভেন্টে তোলা।এই অসাধারণ ছবিটি তুলেছেনঃ আরিফ হোসেইন। নমুনা হিসেবে দেয়া হলো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।