শব্দকল্পের অন্তরালে, হতে পারে এটি একটি অনুচ্চারিত প্রার্থনা…

ডায়রীর ধূসর পাতা থেকে অতীত খুঁড়ে ব্যথা জাগানো আমার এক দুঃখবিলাস। এ’টা তারই ধারাবাহিকতা। অনেক ক’টা দিন হয়ে গেলো। ডায়েরী লেখা হয় না। টেবিলের কোণে অবহেলায় পড়ে আছে আমার বিশ্বস্ত বন্ধু স্বস্তি নামের ডায়েরীটি।আমি জানি, সে অধীর হয়ে অপেক্ষা করছে আমার স্বভাবসুলভ প্রত্যাবর্তনের। সবাই চলে যায় আপন পথে। আমি সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি পথ খুঁজে ফিরি। খুঁজে ফিরি আমার আমিকে। নীচের লেখাটুকু আমার ডাইরী থেকে নেয়া। কখনো হয়তো নিজেকে আমার, একান্ত আমিটার সাথে মিলিয়ে দেখতে ইচ্ছে জাগে। আমি কি এখনো সেই আমি আছি? নাকি বদলে গেছি, হয়ে উঠছি তোমাদের আমি?

সাদাফুল
***বেশ আয়োজন করেই চলছে সময়ের অনবরত, টিক টিক টিক। আসলে চলছে নয়, চালিয়ে যাচ্ছি। চালাতে হচ্ছে বলেই হয়তো..। তবুও, সবার মতো করেই বলতে হচ্ছে, বেশ আছি!! আজকে অনেক ভোরে ঘুম ভেঙে গিয়েছে। পূবের আকাশে ক্ষীণপ্রায় জ্বলতে থাকা শুকতারাটার ঘুম ঢলঢলে চেহারা দেখে একটু আশ্চর্য লাগলো। একটা তারা এতো সুন্দর হয় কখনো!! মহাকাশের বিপুল বিস্তারের মাঝে এমন হাজারো তারাদের বাস। সবাই কি এমন অদ্ভূত সুন্দর!! কে জানে!! আমার সামনে চুপটি করে ঘুমিয়ে থাকা, প্রভাতের শিশিরস্নাত ছোট্ট নদী। নদী গাঁ ছুঁয়ে ভেসে আসা মৃদুমন্দ কোমল বাতাস! অচেনা কোন পাখির ঘুম জাগানিয়া মিষ্টি আহ্ববান। ইজেলে দাঁড় করানো কি অপূর্ব এক জীবন্ত জলচ্ছবি!! প্রকৃতি আমাদের অকৃপণ হস্তে কেবল দিয়েই চলে! কখনো ফেরৎ চায় না। দিতেই সে জানে, নিতে নয়। অথচ আমি? যেকোন কাজেই শুধু হিসেবের খাতায় আঁককষা। লাভ ছাড়া কোন কাজ কখনো করতে গেলেই শঙ্কিত বোধ করি। মনে হয়, লাভ কী? হয়তো এজন্যই আমি এতো বেশি ক্ষুদ্র! এতো ছোট মানসিকতা আমার! কতো সুন্দর মুখোশ আঁটা এই আমি প্রতিদিন ঘুরে ফিরি আমাদের এই সমাজে। সবার কাছে কতো বেশি গ্রহণযোগ্য এই ভন্ড আমিটা!! রিহার্সেল আর মিথ্যে অভিনয় করতে করতে ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। অথচ, আমার মাথার উপরের সুনীল আকাশটা কতোই না উদার! দিগন্ত জুড়ে বয়ে যাওয়া ঘননীলাভ সাগরের বিস্তৃতি কতোটা অবাক করার মতো! সময় কেটে যেতে থাকে তাঁর আপন গতিতে। তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে নাগরিক আমার অন্তরের ক্ষুদ্রতা! হয়তোবা, এই জন্যই আমার পৃথিবীটা চারপাশ থেকে গুটিয়ে আসছে ক্রমাগতঃ অথচ, আমি এমন হতে চাই না। আমারো খুব ইচ্ছে করে, হাসতে, গাইতে। প্রিয় মানুষদের প্রাণখুলে ভালোবাসতে। কিন্তু, আমার কি অপরাধ? আমি যে কখনো কারো ভালোবাসা পাইনি! ভালোবাসতে হয় কি করে, তাই তো জানি না! বন্ধুকে বন্ধু বলে বুকে টেনে নেয়ার বিদ্যে যে আমার কখনো শেখা হয়নি! কেউতো কখনো বলেনি, তুমি কি আমার আকাশ হবে? ইট কাঠ পাথরের জঞ্জালভরা এই শহরে, কাউকে ভালোবাসতে দেখলে এখন আমি নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে দেখি। বহুদিন হলো, অনেক ভালোলাগার জায়গা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ধানমন্ডি লেকে আর যাওয়া হয়না। পছন্দের কোন গান শুনতে শুনতে কখনোই আমার জ্যোৎস্না দেখা হয় না। প্রিয় কারো হাতে হাত রেখে কখনো ভেজা হয় না ঝুম বৃষ্টিতে। আমার জানালা দিয়ে ছোট্ট একটা গরাদআঁটা চারকোণা আকাশ দেখা যায়। সে আকাশে জীবনানন্দের সোনালী ডানার চিলেরা কখনোই কারো বেদনা জাগাতে আসেনা। কোথাও কেউ নেই। সব শূণ্য! মনের বন্ধ জানালায় শুধু একাকী বিষাদ আর নিজের মধ্যে কেঁদে ফেরাএকটা অভিমানী আমির আনাগোনা!! আচ্ছা, চোখে জল এলে, পৃথিবীর সব রংগুলো এমন অন্যরকম দেখায় কেনো? সব আলো সাদাকালোয় রূপ নিয়ে নতুন কোন জগৎ সাজায় বুঝি? নাকি, অন্য রঙেরা দর্শক হয়ে দেখতে থাকে নীরব অশ্রুরঙে নতুন ক্যানভাসে আঁকা কোন নোনা জলের আঁকিবুকি নকশাকাটা?***

ঝুমবৃষ্টি


উৎসর্গঃ
এই পোস্টটি আমার খুব প্রিয় একজন মানুষের জন্য উৎসর্গ করছি। যাঁর জন্য স্বার্থপর এই আমি, কখনোই কিছু করতে না পারার অসম্ভব কষ্ট বয়ে বেড়াই সারাক্ষণ। যাঁর কাছে আমাদের নানা রঙের এই পৃথিবীর সব রঙগুলো শুধুই ধূসর। কোন স্বপ্ন নেই। ভালোবাসা নেই। প্রিয় মানুষের জন্য দিনশেষে কোন অপেক্ষা নেই। কিছুই নেই। শুধুই দ্রুতগতির মেইল ট্রেনের মতো করে জীবনের অবিশ্রান্ত ছুটে চলা। আমি যদি তাঁর চলমান বর্তমান এ্যালবামে রংধনু রঙ এনে সব রঙির করে দিতে পারতাম!! আমার অনাগত ভবিষ্যতের সব আনন্দ, সুখ, ভালোবাসা, হাসি,সুস্থতা আর কল্যানের বিনিময়ে হলেও স্রষ্টা যেনো তাকে ভালো রাখেন। সুখের অবিরল ধারাপ্রবাহে যেনো ভেসে যায় তাঁর ছোট্ট পৃথিবী।

ঈশ্বর মানুষকে যা দেন, তার চেয়ে অনেক বেশি কেড়ে নেন। হয়তো মানুষের অতটা পাওনা ছিলো না। এবং কিছুকাল বাড়তি ভোগের জন্য তাকে গুনাগার দিতে হয়। স্বাস্থ্য সৌন্দর্য সাদা কাগজের মতো। যে কোন মুহুর্তে ঈশ্বরের ইচ্ছায় তাতে কালি ঢালা হতে পারে। কিন্তু, মানুষের হাতে একটি ব্যাপারে ঈশ্বরের পরাজয় ঘটে যায়। সব ফিরিয়ে নিলেও একটি জিনিসে তিনি কিছুতেই হাত বসাতে পারেন না। সেটা হলো মানুষের হাসি। সব হারিয়েও কোন কোন মানুষ সেই হাসির দ্যুতিতে তার হারানো রূপ ঢেকে দিতে পারে। চট করে সে উঠে আসতে পারে স্ব-মহিমায়!
{কালপুরুষ
সমরেশ মজুমদার}

আমার প্রিয় মানুষটিও আবার হাসুক প্রাণখুলে। ‘হাসি’ হয়ে উঠুক আবার সে। আমাদের বাড়িটা, আবার হাসিবাড়ি বলুক লোকে। সেই বাঁধভাঙা টলটলে জলের নির্ঝরনী হাসি দেখবার বড়ো বেশি সাধ হয় আমার!!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।