নির্বাসনের প্রাক-কথন এবং আমার ব্লগীয় জন্মদিন…

আমি হয়তো মানুষ নই,
মানুষ হলে আকাশ দেখে হাসবো কেন ?
মানুষগুলো অন্যরকম, হাত থাকবে,
নাক থাকবে, তোমার মতো চোখ থাকবে,
নিকেলমাখা কী সুন্দর চোখ থাকবে
ভালোবাসার কথা দিলেই কথা রাখবে ।

বাবাকে আমি ভীষণ পছন্দ করতাম। ছোটবেলায় বাবা বলেছিলেন, আরে ধূর..! কাছে আসবি না তো! তোকে না বলেছি, সবসময় দূরে থাকবি..!! আমি দূরেই থেকেছি বাবা..। সেই থেকে আর কখনো তোমার কাছে আসিনি। জানো বাবা, মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে হতো তোমার কোলে মাথা রাখতে। খুব ইচ্ছে হতো ইমন লিমনদের মতো তোমার হাত ধরে ঘুরতে যেতে। কিন্তু, আমি কখনো তোমার কাছে যেতাম না বাবা। তুমি যদি বিরক্ত হও! কি বুঝেছিলাম সেদিন, সেটা আর এখন মনে করতে পারিনা। তবে আর কখনো তোমার কাছে যাইনি। আমি এখন অনেক দূরে চলে গিয়েছি বাবা। অনেক দূরে..। তোমার কাছে কোন প্রয়োজনে যেতাম কখনো সখনো। মা তখন আমাকে বাইরে অপেক্ষা করতে বলতো। সেটাকে তুমি বলতে ওয়েটিং রুম। মাসের খরচের টাকার জন্য তোমার জন্য ওয়েট করতাম। বাবা, আমাকে এখন শুধুই ওয়েটিং করতে হয়। আমাকে এখন ওয়েট করতে হয় সবকিছুর জন্য। আমার চারদিকে এখন অসংখ্য ওয়েটিং রুমের ছড়াছড়ি। আমি আমার প্রিয় মানুষটিকে ভীষণ ভালোবাসি। আমাকে ওয়েট করতে হয় তার একটু সুন্দর হাসির জন্য। তার একটু উচ্ছল আনন্দের জন্য আমাকে বসে থাকতে হয় অনন্তকাল…। আমি ভাবি…। আমার ভাবনার কোন শেষ হতে চায় না। হয়তো এর কোন শেষ নেই বলেই…। প্রিয় মানুষটির সাথে কথা বলবো বলে ফোন দিই। আমার মোবাইলের স্ক্রীণে ভেসে উঠে ওয়েটিং….। আমার জন্য চারদিকের দেয়ালে কেবল এতো এতো ওয়েটিং সাইন ছড়ানো থাকে কেনো বলতে পারো? বন্ধুহীন, ভালোবাসার শীতল স্পর্শহীন আমি হেঁটে চলি…। তবুও আমাকে হা হা করে হাসতে হয়..। বলতে হয়, আমি বেশ ভালো আছি। ভালো থাকছি…। বাবা, আমি বহুদিন থেকে নাটাইবিহীন ভোকাট্টা ঘুড়ির মতো উড়ে বেড়াচ্ছি এখান থেকে সেখানে। এই শহর থেকে ওই শহরে…। স্থির হবার কোন সম্ভাবনার দেখা নেই। হয়তো সেটার জন্যও আমাকে ওয়েট করতে হবে…। হয়তো মৃত্যুর মতো সুমহান মৌনতার জন্য আমাকে ওয়েট করতে হবে বহুদিন…। বাবা, আজকে নববর্ষ। আমার ভীষণ ইচ্ছে করে, তোমার হাত ধরে মেলায় যেতে। জানো বাবা, আমি কখনো বৈশাখী মেলায় যাইনি। আমি কেবল দূর থেকে দূরে সরে গিয়েছি। আমার চারপাশের মানুষ, প্রিয় বন্ধু মুখ, এই সমাজ, সবকিছু থেকে দুরে…। দিনের পর দিন আরো দূরে চলে যাচ্ছি…। আচ্ছা বাবা, আকাশের ওপারেও নাকি আরো আকাশ আছে। আমার খুব ইচ্ছে করে সেখানে যেতে। আকাশটা এতো একা একা থাকে কি করে!! আজ খুব কান্না পাচ্ছে বাবা। একটু ভালোবাসা, একটু স্নেহ আমার জন্য এখন অনেক দুর্লভ হয়ে গেছে। আমার চারদিকে শুধু দূরে যাও..দূরে যাও শব্দ। আমি কোথায় যাবো বাবা..? কেউ আমার হাতটি ধরে কখনো বলেনা, আমি আছি…। একজন বলেছিলো একদিন, বাবা। সেদিন আকাশ জুড়ে ছিলো তারার মেলা। আমাদের পাশে নির্বাক প্রহরী হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো ছোট্ট একটা আমগাছ। আমার ভীষণ প্রিয় মানুষটি বলেছিলো সেদিন, এখনো কি আগের মতো একা লাগে..? সবকিছু কেমন তালগোল পাকিয়ে যায় ইদানিং….। মাথার ভেতরে কেবল নিজের জন্য তীব্র একটা করুণার বোধ জেগে থাকে। আমার পৃথিবীটা এমন হয়ে গেলো কেনো বাবা? আর পারি না বাবা..। ভীষণ ক্লান্তি এসে আমাকে স্থবির করে দিয়ে যায়…। সত্যি বাবা, অসম্ভব রকমের কষ্টে কাটছে সময়ের পরিক্রমা…! আমার জন্মটাই বোধহয় আমার জন্য আজন্ম পাপ….! মনে হয়, আমি হয়তো মানুষ নই….।
==============================
==============================
প্রিয় পাঠক,
আমার পোষ্টটি পড়ে কেউ ভাববেন না, পোষ্টটি নিজের ব্যক্তিগত দুঃখের কাসুন্দি ঘাটার প্রয়াস। (যদিও জানি, পোষ্টটি খুব কম পাঠকের চোখে পড়বে। ) আজকের এই দিনে আমার শব্দনীড়ের সাথে প্রথম পরিচয় হয়। তাই, বলা যায় আজকে আমার ব্লগীয় জন্মদিন। নিজের ভেতরে ভয়ংকর একটা বিপর্যয় ঘটছে….। তার, প্রতিকার আমার জানা নেই। শব্দগুলো কেমন অগোছালো হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে..। তাই, কিছু একটা লিখলাম। সান্তনা থাকলো, নিজের জন্মদিন অন্তত সেলিব্রেট তো করলাম..! সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা…। জীবন হয়ে উঠুক শতভাগ সুন্দর…।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।