9মনে করুন, সময় এখন রাত ৩টা বেজে ৩০ মিনিট। আপনি শুয়ে আছেন রুক্ষ পশ্চিমের কোন এক দুর্গম ট্রেইলে। পাশে দাঁড়িয়ে ঘুমোচ্ছে আপনার বিশ্বস্ত ঘোড়া।  কিংবা, ঘুমোচ্ছেন টেক্সাসের কোন এক সুপ্রাচীন র‌্যাঞ্চে। পড়নে কাউবয়ের পোশাক। কেমন হবে ব্যাপারটা? কিংবা মনে করুন, এই বর্তমান কংক্রিট সময়ে আপনি জায়গার অভাবে আবাস গেড়েছেন, দুই বিল্ডিংয়ের মাঝখানের ফাকা জায়গাটুকু দখল করে তৈরী করা কোন এক ভাসমান বাড়িতে? কিংবা ভাবুন এমন কোন বাড়ির কথা, যেখান থেকে আপনি দেখতে পারবেন অরণ্যের আদিম সৌন্দর্য। যেখানে আপনাকে ভাবতে হবে না নিজের নিরাপত্তা নিয়ে। যেখানে আপনি কোন পাহাড়ের ফাটল কিংবা, দৈত্যাকার গাছে ঘুমিয়ে পড়বেন আধুনিক এবং রাজকীয় কোন বিছানায়? কেমন হবে বলুনতো..?

1ওয়েস্টার্ণ কাহিনী কিংবা মধ্যযুগীয় শিকারের গল্পে আমরা লগ কেবিনের ব্যবহার দেখতে পাই। যেখানে শিকারীরা তাদের অস্থায়ী আবাস বানিয়ে নিতো। সামনের বিস্তীর্ণ প্রেইরী, সুবিশাল স্তেপ কিংবা বনের সবিস্তার অস্তিত্বের পাদদেশে কাঠের গুড়ি দিয়ে তৈরী হতো এই লগ কেবিন। প্রযুক্তির উৎকর্ষতার বর্তমান সময়ে এসে এই ধরণের কেবিনের কথা আমাদের ভাবনায় আসে না। কিন্তু, ফ্রান্সের এক পরিবেশবাদী ডিজাইনার আর্কিটেক্ট আমাদের শোনাচ্ছেন অদ্ভূত এক ট্রি হাউজ বা বৃক্ষনিবাস এর গল্প।

5বের্ণি ড্যু পায়রাট নামের এই ফ্রেঞ্চ ভদ্রলোক উদ্ভাবন করেছেন কোকন ট্রি নামক একটি ভাসমান ট্যান্ট বা তাবু। চারদিক থেকে মোট ১২ টি পয়েন্টে বিশেষ ধরণের সাসপেনশান কেইবলের সাহায্যে ঝুলবে এই বিশেষ বাড়ি। আশেপাশের গাছ, পাথর, বাঁশ কিংবা যেকোন খুটির সাথে জুড়ে দিয়ে ঝুলিয়ে রাখার ব্যবস্থা আছে এই বৃক্ষ নিবাসে। ঝুলন্ত অবস্থায় দূর থেকে দেখলে এই ভাসমান ট্রি হাউজকে মনে হবে, পৌরানিক কোন দানবীয় পাখি বসে আছে যেনো শিকারের অপেক্ষায়।

4বৃক্ষনিবাস কোকন ট্রি প্রায় ১৩০ পাউন্ডের একটি গোলাকার এ্যালুমিনিয়াম স্ট্রাকচার। ঝুলে থাকার অবলম্বন হিসেবে এটি ব্যবহার করে সাসপেনশান কেইবল এবং এর বহিরাগত নিরাপত্তার জন্য এতে ব্যবহৃত হয় বিশেষ ধরণের নেইট বা জাল। ডায়ামিটারে ৩ মিটারের ম্যাট্রেস বা মাদুর এবং পাখির পালকের তৈরী নরোম লেপ বিছানো থাকে এর ভেতর। ১.৫ টন ওজন বহনে সক্ষম এই তাবুটি ৪ জনের একটি ছোট পরিবারের জন্য আদর্শ ক্যাম্পিং ট্যান্ট হয়ে উঠতে পারে। সৌরশক্তি কিংবা বায়ূশক্তিচালিত এয়্যার কন্ডিশনিং সিস্টেম নিশ্চিত করে তাবুর আরামদায়ক আবাসিক ব্যবস্থা। কোকন ট্রির রাজকীয় ইন্টেরিয়র সুরক্ষিত থাকে বাইরের মজবুত ও জলরোধী  আবরনের মাধ্যমে।

7এই ভাসমান বাড়িতে থেকে আপনি হয়তো ভাসবেন পাহাড়ের ঝুলন্ত কোন তাক থেকে। কিংবা লেকের উপর মুখ বাড়িয়ে থাকা কোন গাছে থেকে আপনি দেখবেন লেকের শান্ত পানিতে মাছেদের ছোটাছুটি কিংবা মাথার উপর দাঁড়িয়ে থাকা বিশ্বস্ত আকাশের বর্ণিল ছাঁয়া। চাইলে শুনতে পারেন জলপ্রপাতের অবিরাম শো শো ধ্বনি। গাছপালার ভেতরে পাখিদের রাজ্যে কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙবে আপনার। মনে হবে, আপনিও ওদেরই একজন। প্রকৃতির ঐকতানে আধুনিক বক্ষনিবাস এই কোকন ট্রি।

3কিন্তু, এই বৃক্ষনিবাসের মালিক হতে  চাইলে আপনাকে গুণতে হবে প্রায় ৫০০০ ডলার থেকে ৮০০০ হাজার ডলার পর্যন্ত। কোকন ট্রির এই উচ্চমূল্য এর প্রসারে প্রাথমিকভাবে বাধা হয়ে দাঁড়ালেও অদূর ভবিষ্যতে এর চাহিদা দ্রুত বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  বাংলাদেশের মতো অনুন্নত দেশের সাধারণ নাগরিকদের কাছে এই বৃক্ষনিবাস নিতান্তই আকাশকুসুম কল্পনা।

6তবুও, আমাদের মেধা আর প্রচেষ্টায় এ’রকম বৃক্ষনিবাস গড়ে তোলা সম্ভব বলেই মনে করি। সেদিন হয়তো দূরে নয়, যেদিন আমরা এমন তাকলাগানো সব উদ্ভাবন দিয়ে চমকে দিতে থাকবো বিশ্বকে। গ্লোবালাইজেশনের এই সময়ে প্রযুক্তির জয়যাত্রায় আমাদের অংশগ্রহণ আরো দ্রুততায় রূপ নিক।

10কোন একদিন নিশ্চয়ই সেন্টমার্টিন কিংবা শাহপরীর দ্বীপে, সুন্দরবন কিংবা কেওকারাডাংয়ে, কোকন ট্রির নরোম বিছানায় ঘুমোতে যাবে আমাদের আগামী প্রজন্ম। ভোরের সূর্যটা নিশ্চয়ই তাদের জানাবে আন্তরিক অভিবাধন। বিজ্ঞানের এই অপ্রতিরোধ্য জয়যাত্রা হোক কেবলই পৃথিবীর মঙ্গলের জন্য।

কোকন ট্রি; এক আধুনিক বৃক্ষনিবাসের আদ্যোপান্ত

মনে করুন, সময় এখন রাত ৩টা বেজে ৩০ মিনিট। আপনি শুয়ে আছেন রুক্ষ পশ্চিমের কোন এক দুর্গম ট্রেইলে। পাশে দাঁড়িয়ে ঘুমোচ্ছে আপনার বিশ্বস্ত ঘোড়া।  কিংবা, ঘুমোচ্ছেন টেক্সাসের কোন এক সুপ্রাচীন র‌্যাঞ্চে। পড়নে কাউবয়ের পোশাক। কেমন হবে ব্যাপারটা? কিংবা মনে করুন, এই বর্তমান কংক্রিট সময়ে আপনি জায়গার অভাবে আবাস গেড়েছেন, দুই.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

* ছবির অক্ষরগুলো উপরের ঘরে লিখুন