নাইট টেম্পলার..একটি কিংবদন্তির ইতিবৃত্ত

দ্য ভিঞ্চি কোড পড়েছেন? ভিঞ্চি কোডের স্যার লেই টিবিং , রবার্ট ল্যাংডন, রোজলিন চ্যাপেল, রোজউডের পাঁচ পাপড়ি বিশিষ্ট গোলাপ আঁকা সেই বাক্স, শত বছরের প্রাচীন রহস্যাবৃত প্রয়োরীদের হাতে সুরক্ষিত স্যাংগৃল দলিল, টেম্পল চার্চ, হলি গ্রেইলের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই? ভেনাসের সেই পাঁচভূজের পেনটাকল, হায়ারোস গামোস, গোলক, কি-স্টোন, লিউনার্দো দ্য ভিঞ্চির অনন্য সৃষ্টি ভিটরুভিয়ান ম্যানের সেই ভঙ্গির অতিজাগ্রত পূনরাবৃত্তি, ওহ! ড্রাকোনীয়ান ডেভিল, ওহ! ল্যাংড়া শয়তান… একটি অতিপ্রাকৃত সংকেত..। একটি পরাবাস্তব আবহের পূণঃপৌনিক সঞ্চরণশীলতা..। চির গোপন কিংবদন্তী, হলি গ্রেইলের অতন্দ্র রক্ষী, নাইট টেম্পলারদের ঐতিহাসিক প্রশংসনীয় অবস্থান বিষ্মিত করার মতো। মনে আছে সেই নাইট টেম্পলারদের কথা? কারা ছিলো এই টেম্পলার?

নাইট টেম্পলারদের প্রতীক
নাইট টেম্পলারদের প্রতীক

সোলমনের মন্দির এবং খ্রিস্টের দরিদ্র সহযোগী-সৈনিকবৃন্দ (Poor Fellow-Soldiers of Christ and of the Temple of Solomon) সাধারণ মানুষের কাছে নাইট টেম্পলার নামে পরিচিত। এছাড়া একে অর্ডার অফ দ্য টেম্প্‌ল-ও বলা হয়ে থাকে। খ্রিস্টান সামরিক যাজক সম্প্রদায়গুলোর (অর্ডার) মধ্যে এটিই সবচেয়ে বিখ্যাত এবং পরিচিত। মধ্য যুগে প্রায় দুই শতক ব্যাপী এই সংগঠনের অস্তিত্ব বিরাজমান ছিল। ১০৯৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ক্রুসেডের পরই এর সৃষ্টি হয় যার উদ্দেশ্যে ছিল জেরুজালেমে আগত বিপুল সংখ্যক ইউরোপীয় তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। জেরুজালেম মুসলিমদের দখলে চলে যাওয়ার পরই এই নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

টেম্পলারদের সাম্ভব্য পতাকা
টেম্পলারদের সাম্ভব্য পতাকা

১১২৯ খ্রিস্টাব্দে চার্চ এই সংগঠনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দান করে। এর পর থেকে যাজক সম্প্রদায়টি গোটা ইউরোপের সবচেয়ে জনপ্রিয় দাতব্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। এর সদস্য সংখ্যা এবং একই সাথে ক্ষমতা বিপুল হারে বাড়তে থাকে। স্বতন্ত্র ধরণের লাল ক্রস সংবলিত আলখাল্লা পরিধান করার কারণে যে কোন টেম্পলার নাইটকে সহজেই চিহ্নিত করা যায়। তারা ছিল ক্রুসেডের সময়কার সর্বোৎকৃষ্ট অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত, সর্বোচ্চ মানের প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত এবং সর্বোচ্চ শৃঙ্খলাবিশিষ্ট যোদ্ধা দল। এই যাজক সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে যারা যোদ্ধা ছিল না তারা সমগ্র খ্রিস্টান রাজত্ব জুড়ে এক সুবৃহৎ অর্থনৈতিক অবকাঠামো নির্মাণ করেছিল। অর্থ উপার্জনের নব্য নতুন সব উপায় উদ্ভাবনের জন্য তারা বিখ্যাত। তাদের এই সব কাজকর্ম ছিল প্রাচীনতম ব্যাংকিং ব্যবসার নমুনা। তারা ইউরোপ এবং পবিত্র ভূমি জুড়ে প্রচুর দুর্গ তৈরি করেছিল।
টেম্পলারদের সাফল্য ক্রুসেডের সময় অনেকাংশেই সাধারণ ক্রুসেডারদের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল। খ্রিস্টানরা যখন পবিত্র ভূমির কর্তৃত্ব হারায় এবং ক্রুসেডাররা নির্মমভাবে পরাজিত হয় তখনই এই যোদ্ধা যাজক সম্প্রদায়ের প্রতি সমর্থন অনেকাংশে কমে আসে। টেম্পলারদের গোপন সূচনা অনুষ্ঠান অনেকের মনে সন্দেহের উদ্রেক করে যাদের মধ্যে ফ্রান্সের রাজা ফিলিপ ৪-ও ছিলেন। ফিলিপ ৪ তদানীন্তন পোপ ক্লিমেন্ট ৫-কে টেম্পলারদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। ১৩০৭ খ্রিস্টাব্দের ১৩ অক্টোবর রাজা ফিলিপ ৪ ফ্রান্সের বিপুল সংখ্যক টেম্পলারদের আটক করে তাদের উপর নির্যাতন চালান। অনেককে পুড়িয়ে মারা হয়। ১৩১২ খ্রিস্টাব্দে পোপ ক্লিমেন্ট রাজা ফিলিপের অব্যাহত চাপে পড়ে অবশেষে নাইট টেম্পলার সংগঠনটিকে চিরতরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। এর অব্যবহিত পরেই ইউরোপের বিপুল সংখ্যক অবকাঠামো নিরুদ্দেশ হয়ে যায় যা অনেক কিংবদন্তী এবং গল্পের জন্ম দেয়। এ কারণে আধুনিক কল্পকাহিনীতেও টেম্পলারদের সরব উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।
ব

ইতিহাসের একটি অনন্য অধ্যায় নিয়ে ধারাবাহিক পোস্টের এ’টা প্রথম কিস্তি..। সম্পূর্ন পোস্ট শেষ হবার পর, বিস্তারিত তথ্যসূত্র দেয়া হবে। আশা করছি, সকলেই আমার সঙ্গ দেবেন, আপন পাঠকীয় বিশ্লেষন এবং তথ্যের পূর্ণতা দিয়ে। সকলের জন্য শুভ কামনা রইলো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

* ছবির অক্ষরগুলো উপরের ঘরে লিখুন